শাল্লায় ব্যবসায়ীর দোকান তালা দিলেন এসআই : প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল
- আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৯:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৯:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
শাল্লা থানার এসআই ‘ফ্যাসিস্ট ট্যাগ’ দিয়ে এক ব্যবসায়ীর দোকান তালা দিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে তার বিচার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজনদের কাছেও বিচার চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী সুব্রত দাস ও লাকু দাস যৌথ ব্যবসা করতেন। এক পর্যায়ে লাকু দাস সুব্রত দাসের কাছে প্রায় ১২ লাখ টাকার মতো দেনাদার হয়ে যান। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে কিস্তিতে দেনা মেটানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর টাকা পরিশোধ না করতে উপজেলার আটগাঁওয়ের বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলামের দ্বারস্থ হন লাকু দাস। আজহারুল এর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুটের স্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত কমিটিতে তার নাম সম্বলিত একটি কাগজ পাওয়া গেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির স্থানীয় একাধিক গ্রুপের একাধিক নেতার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রভাবশালী বনে যান। এলাকার থানা পুলিশের সাথে সম্পর্ক করে মানুষকে হয়রানিসহ নানা সমালোচনামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন আজহারুল। লাকু দাসের হয়ে সুব্রত দাসের টাকা পাওনা টাকা যাতে না দেওয়া হয় সেজন্য সুব্রত দাসকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দেন তিনি। কিন্তু সুব্রত দাসের পক্ষে টাকা পাওয়ার প্রমাণ, সাক্ষী থাকায় সুবিধা করতে পারছিলেন না লাকু দাস। এক পর্যায়ে লাকু দাস সুব্রত দাসকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুরাতে থাকেন। ক্ষুদে ব্যবসায়ী সুব্রত দাস নানা ঝামেলায় পড়ে তার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চেষ্টা করছিলেন। কিছু দিন আগে লাকু দাস সুব্রত দাসকে আজহারুলের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকার বদলে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার প্রতিজ্ঞা করেন। কিন্তু আজহারুল ১ লক্ষ টাকা নিয়ে ৯০ হাজার টাকা দেন সুব্রত দাসকে। পরবর্তীতে বাকি টাকার জন্য চাপ দিলে সুব্রত দাস দেই-দিচ্ছি করেন। এক পর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন লাকু দাস। এই সুযোগে আজহারুল সুব্রত দাসের কাছে তিনি ১ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করে তাকে টাকা পরিশোধের হুমকি-ধমকি দেন। এখনো হুমকি-ধমকি দিয়ে এসআই ইমাম আরেফিনকে দিয়ে গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী সুব্রত দাসের ওয়ার্কসপ দোকান তালা দিয়েছেন। আজহারুলের টাকা পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ীকে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগালি করেন আরেফিন এমন একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে আছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ব্রজেমশ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করে এসআই আরেফিন কর্তৃক দোকান তালা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী সুব্রত দাস বলেন, আমি লাকু দাসের কাছে ১২ লক্ষ টাকার বেশি পাই। সে বিভিন্ন স্থান থেকে বিল পেলেও আমার টাকা পরিশোধ করছিল না। দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাচ্ছিল। এ বিষয়টি বাজারের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ অনেকেই জানেন। কিন্তু কিছুদিন ধরে তিনি টাকা না দিয়ে আজহারুল নামক সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার আশ্রয় নিয়ে আমার পাওনা টাকা পরিশোধ না করতে ওই হুমকি ধমকি দেন। গত বৃহস্পতিবার আমার দোকানও তালা দিয়ে দিয়েছে এসআই আরেফিনকে নিয়ে। এখন হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আমি পুলিশের উচ্চমহলে এ বিষয়ে অভিযোগ করবো।
অভিযুক্ত লাকু দাস বলেন, সুব্রত আমার কাছে টাকা পায় সেটা সত্য। আমি বিল পাইলে টাকা দেব এটা সবাইকে বলেছি। কিন্তু আজহারুলের আর সুব্রত দাসের লেনদেন সম্পর্কে আমি কিছু জানিনা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজহারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে এবং একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেননি।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই আরেফিন বলেন, আমি কারও দোকান তালা মারিনি এবং কাউকে হুমকি-ধমকিও দেইনি।
শাল্লা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা (ওসি তদন্ত) মো. শওকত বলেন, ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দেওয়া এবং তাকে কটু কথা বলার খবর পাওয়ায় আমি এসআইকে শাসিয়েছি।
শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল বলেন, কোন নব্য বিএনপি কারও সঙ্গে কিছু করলে আমরা দায়ভার নেবনা। ব্যবসায়ী সুব্রত দাসের দোকানে তালা দেওয়ার ঘটনাটি নিন্দনীয়। আমি তাকে তালা ভাঙ্গার কথা বলেছি। বিষয়টি আমরা শিঘ্রই দেখে দেব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ